জাতির ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য দেশপ্রেম যথেষ্ট

সরদার এম এ মজিদ

জাতির ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য শুধু শ্লোগানে দেশপ্রেম যথেষ্ট নয়-এর অন্তরে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা। একটি রাষ্ট্র তখনই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে, যখন তার প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে সততা, নীতি-নৈতিকতা ও প্রকৃত দেশপ্রেম লালিত হয়। কিন্তু আমা এই প্রজাতন্ত্রের অধীন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আচরণে সেই মূল্যবোধের স্পষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর মূল কারণ-ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিষবীজ সমাজের গভীরে বদ্ধমূল হয়ে গেছে।

যদি এই দেশে এসব অনিয়ম না থাকত, তবে আমরা বহু আগেই বিশ্বের উন্নয়নশীল। দেশের কাতারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতাম। দুর্নীতি, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতিই আমাদের অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি থেকে ততদিন রাষ্ট্র ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাবে। দেশপ্রেম দাবি করে স্বার্থপরতা ত্যাগের। এটি শুরু করে সাধারণ নাগরিক-সব্যর মধ্যে যতদিন সত্যিকারের দেশপ্রেম জাগ্রত না হবে, কোনো ওষুধ নয় যে কিনে খেয়ে অর্জন করা যাবে। দেশপ্রেম মানে-রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদকে নিজের আমানত মনে করা এবং তা রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করা।

কিন্তু আজ আমরা সেই দায়িত্ববোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। সরকারি সম্পদ লুন্ঠন করে দেশকে দেউলিয়া করার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র যাকে যে দায়িত্ব দিচ্ছে, সে তা পালন করার বদলে সম্পদকে ব্যক্তিগত লাভের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। বিবেক কি তখন দংশন করে না? এই দেশ ধ্বংসের মুখে গেলেও যেন কারও চিন্তা নেই-সবাই ব্যস্ত ব্যক্তিস্বার্থ গোছাতে।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার দায়িত্ব কি শুধু সরকারের, নাকি আমাদের সবার? টাকার মোহে বিবেক অন্ধ হয়ে গেলে সেখানে দেশপ্রেমের কোনো জায়গা থাকে না। যতদিন এই জাতির মানুষ ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে মূল্য দিতে শিখবে না, ততদিন প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না। ৫৫ বছরে বহু সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু জাতীয় উন্নয়ন কিংবা ভাগ্যের পরিবর্তনের কোনো স্থায়ী প্রতিচ্ছবি দেখা যায়নি। অতীত সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনে বহু প্রাণ ঝরেছেড়বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এসব ত্যাগ কি আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হলেও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের আশানুরূপ লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। ড. মোহাম্মদ ইউনুসের মতো একজন সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিও যখন দেশের দুর্নীতির শিকড় ছেঁটে ফেলতে পারেন না, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটির গভীরতা ভয়াবহ। যেন ফেরেশতা দিয়েও দেশ শাসন করলেও দুর্নীতি দূর করা যাবে না। এখনো সরকারি দপ্তরে টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না-দেশপ্রেম রয়ে গেছে কেবল কাগজ-কলমে, আর বাস্তবে আমরা নিমজ্জিত স্বার্থপ্রেমে।

যতদিন আমরা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান না দেব, ততদিন ন্যায্য অধিকার ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হবে না। তাই প্রয়োজন-সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিকতার আদর্শ পুনাস্থাপন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আদালত মানুষের বিবেক; সততাই মূল, মানবতাই ধর্ম। সৎকর্মের পথে সমাজকে এগিয়ে নিতে আমাদের সম্মিলিতভাবে বিবেককে জাগ্রত করতেই হবে। লেখক: সরদার এম এ মজিদ পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ