উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে ভেসে যাওয়া ৪ ইউনিয়নের পুকুর, দিঘি ও খামারের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি। ক্ষতিগ্রস্ত মাছের ঘেরের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৫০টি। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৯০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
ফুলেরগাতী গ্রামের ঘের মালিক প্রবীর রায় বলেন সুন্দলী দক্ষিণ বিলে ২টি ও সুন্দলী ইউনিয়নে আরো ৩টি মাছের ঘের রয়েছে তার। বাড়েদা গ্রামে ৩টি ঘেরের জমির পরিমাণ ৩০০ বিঘা (৫২ শতক)। ঘেরগুলো থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া ঘেরপাড়ের সবজি ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে।এ ক্ষতি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর আমার মত অসংখ্য ঘের মালিক ও কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে অন্য ব্যবসা করতে বাধ্য হবে।
ডহর মশিয়াহাটি গ্রামের মাধব মন্ডল বলেন, বাড়ির পাশে ৩৫০ বিঘা (৪২ শতক) জমিতে মৎস্য ঘের পুরোটাই তলিয়ে গেছে,আমি এখন দিশেহারা। দুই দফা টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মাছ মরতে শুরু করেছে। সমিতি থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করব কিভাবে তা আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, ‘অভয়নগরের ভবদহ অঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গত মৌসুমে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও এবার জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হবে না। কারণ ৭ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আমন ধানের মধ্যে ১ হাজার ৮২৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হতে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন,এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে ৪৭৫ জন কৃষককে বিনামূল্যে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লাল শাক, গিমা কলমি শাকের বীজ ও নগদ এক হাজার করে টাকা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের মাধ্যমে দেয়া হবে এবং সকল প্রকার পরামর্শ দিতে সর্বদা তৎপর আছেন তারা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল হক বলেন, ‘চলতি মাসের প্রথম দিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারী বৃষ্টিসহ নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে অভয়নগরে মাছের ঘের মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পায়রা, চলিশিয়া, সুন্দলী ও প্রেমবাগ ইউনিয়নসহ নওয়াপাড়া পৌর এলাকার ১ হাজার ২৫০টি পুকুর, দিঘি ও খামারের মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া ৩ হাজার ৬৫০টি ছোট-বড় মাছের ঘেরের একই অবস্থা হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৯০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’