একজন সফল মহিলা উদ্যোক্তার গল্প

একজন সফল মহিলা উদ্যোক্তার গল্প
মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহীর জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর শহরের কাশিয়াডাঙ্গা মোড় একটু সামনে হাসিনা এগ্রো ফার্ম ও নার্সারী। খুব ছোট বেলায় বিবাহ হয় হাসিনা ইয়াসমিনের । স্বামী বেকার , কোন রকম চলছিলো সংসার । সংসারে এলো এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সব কিছুই এলো মেলো করে দিলো । সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে , সব কিছুই অন্ধকার দেখতে লাগলেন হাসিনা ইয়াসমিন । হাতের কাজ করে চলছিলো সংসারের জীবন যুদ্ধ। একটা তৈরি পোশাক শোরুম দিলেন হাসিনা ইয়াসমিন। খুব ভাল চলতে লাগল ব্যবসা । কেটে গেল কিছু বছর । মেয়েটিও বড় হলো । পাশাপাশি একটা স্কুলে চাকরি হলো । সেই সাথে জৈব সার তৈরীর প্রশিক্ষণ নিলেন বগুড়া থেকে । একটা নার্সারী করলেন । ভালোই চলছিলো সবকিছুই। কোন বাঁধাই আটকিয়ে রাখতে পারেনি এই মহিলাকে । কিছু দুষ্ট লোকের অসাধু চক্র , স্কুলের চাকরি থেকে বাদ দিলেন হাসিনা ইয়াসমিন কে । কিন্তু থেমে যান নি এই মহিলা ।
মেয়ের বিয়ে দিলেন । হাসিনা ইয়াসমিন শুরু করলেন জৈব সার কারখানা । প্রচুর বিক্রি হতে শুরু হলো এই ড্রাইকো ভার্মা সমৃদ্ধ জৈব সার। অপরদিকে খুব ভাল চলতে লাগলো নার্সারি । আশেপাশের অসহায় মহিলা ও পুরুষরা কাজ শুরু করলেন এই হাসিনা এগ্রো ফার্মে । একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে , বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরকৃত হলেন এই হাসিনা ইয়াসমিন। বিভিন্ন দেশের লোকজন এসে দেখেন তার জৈব সার কারখানার প্রকল্প ।আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই।
সাফল্য যখন হাতের মুঠোয়। তখনও এক মিনিটের জন্য বসে নেই, এই মহিউসী নারী । মুরগির খামারের কাজ শুরু করেছেন । কিছু মুরগি নিয়ে শুরু করেছেন । মুরগি ও হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন। দূর দূরান্ত থেকে কৃষক নিয়ে যাচ্ছেন জৈব সার । নার্সারী থেকে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে । আজ অর্থনীতিক ভাবে ব্যপক সাফল্য অর্জন ও অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এই মহিউসী নারী হাসিনা ইয়াসমিন ।
