ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
গোপালগঞ্জের তিন আসনেই বিএনপির জয়।

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার;- বিশেষ প্রতিনিধী গোপালগঞ্জ।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। সবকটি আসনে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দলটির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত ফলাফল এসেছে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসন থেকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিন্দু মহাজোটের নেতা গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। শেখ হাসিনার পৈত্রিক নিবাস ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপির এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনেও পরিবর্তনের হাওয়া বইেছে। সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ-2 আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কে এম বাবর। তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট। এ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, যিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি ও জোটের শরিকদের মধ্যে।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর একবার জয়ী হলেও, এবারের ফলাফলকে জেলার ইতিহাসে বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, এই ফলাফল ভোটারদের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি। বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতি গনপ্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত গনমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা, ( NPS) ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি-র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ