পরিত্যক্ত জায়গায় পায়রার কলতান : পল্লী বিদ্যুৎ ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে ছোট্ট পায়রার খামার, বাড়ছে সৌন্দর্য ও বিনোদন

পরিত্যক্ত জায়গায় পায়রার কলতান : পল্লী বিদ্যুৎ ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে ছোট্ট পায়রার খামার, বাড়ছে সৌন্দর্য ও বিনোদন
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর) : শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত কবুতর বা পায়রা মানুষের কাছে বহুদিন ধরেই প্রিয় পোষা প্রাণী। উঠান কিংবা ছাদে ঝাঁক বেঁধে পায়রার ওড়াউড়ি, তাদের মৃদু কলতান ও নানা কসরত সহজেই মানুষের মন কেড়ে নেয়। শখের পাশাপাশি বর্তমানে অনেকেই কবুতর পালনকে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন। কবুতর পালন তুলনামূলক সহজ একটি কাজ। সঠিক ঘর নির্মাণ, পর্যাপ্ত খাদ্য ও রোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে অল্প পরিসরেই এ প্রাণী পালন করা সম্ভব। সাধারণত কবুতর মুক্ত পদ্ধতি, আবদ্ধ পদ্ধতি ও অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে পালন করা হয়। গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্ধ-আবদ্ধ বা মুক্ত পদ্ধতিতে কবুতর পালন বেশি দেখা যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়ায় বসে এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রজনন ঘটে। খড়-কুটো বা ছোট ডালপালা দিয়ে নিজেরাই বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। সাধারণত স্ত্রী কবুতর ৪ থেকে ৫ মাস বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রায় ২৮ দিন পরপর ২ দিন ব্যবধানে দুটি করে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১৮ দিন। এই সময় পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর পালাক্রমে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর প্রথম দিকে তাদের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত বাচ্চা কবুতর বাইরের কোনো খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। এ সময় তারা মা-বাবার খাদ্যথলি থেকে দুধের মতো বিশেষ খাদ্য গ্রহণ করে। প্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত বাচ্চারা নিজেরা দানাদার খাদ্য খেতে পারে না। তখন মা-বাবা দানাদার খাদ্য ছোট টুকরো করে বাচ্চাদের মুখে তুলে খাওয়ায়। প্রায় এক মাস বয়সে বাচ্চাদের পাখা গজাতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তারা স্বাভাবিকভাবে উড়তে শেখে। প্রাচীনকাল থেকেই কবুতরের ব্যবহার ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ব্যবস্থায় একসময় কবুতরের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হতো। এমনকি বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জরুরি বার্তা পাঠানোর কাজে কবুতর ব্যবহার করা হয়েছিল। এদিকে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা একটি জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট একটি পায়রার খামার। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে পায়রার ঘর তৈরি করা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পরিত্যক্ত জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নান্দনিক ও বিনোদনমূলক পরিবেশ।
উদ্যোগটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মী মতিয়ার রহমান জানান, আগে জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে পরিষ্কার করে সেখানে পায়রা পালন শুরু করা হয়। বর্তমানে এখানে এক জোড়া ময়ূরী, তিন জোড়া কিং এবং ব্লু জাতের কবুতর রয়েছে। আগে প্রায় ২০ জোড়া কবুতর ছিল। একটি বাচ্চা মারা যাওয়ায় বর্তমানে ১৯ জোড়া রয়েছে। ইতোমধ্যে আবার ডিম পাড়া শুরু হয়েছে এবং সামনে আরও বাচ্চা ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. গোলাম কাদির বলেন, “আমি এখানে যোগদানের পর দেখলাম ক্যাম্পাসের একটি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে এবং কোনো কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। তখন ভাবলাম, এটিকে যদি কোনোভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে জায়গাটিও ব্যবহার হবে এবং পরিবেশও সুন্দর হবে। ঝিকরগাছা এলাকায় অনেকেই পায়রা পালন করে এবং আমাদের ক্যাম্পাসেও প্রায়ই পায়রা দেখা যায়। সেখান থেকেই এই উদ্যোগের চিন্তা আসে। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে কর্মরত মালি ও অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় ছোট পরিসরে এই উদ্যোগটি শুরু করা হয়েছে। আমি মূলত একটি উদ্যোগ তৈরি করে দিয়েছি। আমি থাকি বা না থাকি, ভবিষ্যতে যারা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন তারা যদি এটি ধরে রাখেন তাহলে এটি একটি স্থায়ী উদ্যোগ হিসেবে টিকে থাকবে। কর্মব্যস্ততার মাঝে অবসর সময়ে একটু এসে পায়রাগুলোকে দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এটি মূলত মানসিক প্রশান্তি ও একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরির জন্যই করা হয়েছে।
