হবিগঞ্জে গৃহবধূর বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

লুটপাট, রক্তাক্ত জখম ও নবজাতকের মৃত্যু

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে গৃহবধূ সাহিদা বেগমের (৩০) বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকদিন পর সাহিদা বেগম অসুস্থ সন্তান জন্ম দিলেও নবজাতকটি দুই দিন পর মারা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৫ জুন বিকেলে ইছাক মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাহিদা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গর্ভবতী সাহিদাকে পেটে ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার পিতা, মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও এ সময় মারাত্মকভাবে আহত হন।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির গেইট ভেঙে প্রবেশ করে দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার, আরও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা করার পরামর্শ দেয়। তবে লুণ্ঠিত মালামাল ফেরত মেলেনি, বরং হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

নবজাতকের মৃত্যুতে শোকে কাতর সাহিদা বেগম বলেন,
“আমি সন্তান হারিয়েছি। এখনো আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ন্যায়বিচারই একমাত্র ভরসা।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা এ হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের শাস্তি ও লুণ্ঠিত মালামাল ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ