শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর মাজার জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করেছে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ। শনিবার সকালে সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম দীপুর নেতৃত্বে রাজধানীতে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজারে সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে ফাতেহা পাঠ, কোরআন তেলাওয়াত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম দীপু বলেন,“আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে আমরা একটি আদর্শ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। শহীদ জিয়ার আদর্শ ছিল দেশপ্রেম, আত্মনির্ভরতা ও জনগণের কল্যাণ। তাঁর দেখানো পথে চলেই আমরা একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।”তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
এ সময় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন মিয়া বলেন,“এই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। একইসঙ্গে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা আজও দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।সংগঠনের সহ-সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন,“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় ও আবেগঘন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনের কাজে সকলকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমরা চাই তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।”
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ খায়রুল বাশার লাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ আব্দুল ওয়াহেদ এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। তারা বলেন, স্বাধীনতার পটভূমিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক সাহসী, দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেতা। তাঁর আদর্শ, আত্মত্যাগ ও দেশ গঠনের দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির সদস্যবৃন্দ, যাত্রাবাড়ী, শাহ আলী, বনানী ও উত্তরখান থানা কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।পরে সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন থানা পর্যায়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমূলক চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন
