বাগানে পাতার চেয়ে ফল বেশি

মোঃ মাফিজুল ইসলাম (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ২৭ জুন/২৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহীপুর খিড়াপাতার যেখানে একসময় ঝোপঝাড় ও আগাছায় ভর্তি ছিল। সেই পতিত জমিতেই এখন বিভিন্ন জাতের আম গাছে ভর্তি। প্রতিটি গাছে এত বেশি পরিমাণে আম ধরেছে এ দেখে স্থানীয়রা বলছে, বাগানে পাতার চেয়ে ফল বেশি।
মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে প্রায় দেড়শ বিঘা জমি জুড়ে বিভিন্ন জাতের আম গাছের বাগান করা হয়। এক সময় যেখানে এতই ঝোপঝাড়ে ঢাকা ছিল যে মানুষ ভয়ে ওর পাশদিয়ে পথ চলত না। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আইয়ুব আলী লিজ নিয়ে সেই জমিতেই গড়ে তোলেন আম বাগান।
আইয়ুব আলী ক’বছর আগে বিভিন্ন জাতের আমের চারা রোপণ করেন। বিগত বছর গুলোতে নতুন গাছে অল্প আম ধরলেও এবছর প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে আম। বাগান করতে আইয়ুব আলীর প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান। আমের বাজার শেষ পর্যন্ত এমন যদি থাকে আমার বাগানের খরচ উঠেও লাভ থাকবে বলেন বাগান মালিক।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে এত বেশি পরিমাণে আম ধরেছে যে ডালগুলো আমের ভারে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বাগানে প্রায় ২০ হাজারের অধিক বিভিন্ন জাতের আম গাছ আছে। এরমধ্যে আমরুপালি, বারিফোর, নাক ফজলী, হাঁড়িভাঙ্গা, চোষা, ন্যাংড়া, ব্যানানা, খিরশাপাতি সহ প্রায় ১২ জাতের আম গাছ আছে।
আমের মৌসুমে প্রতিদিন ৩০-৪০’জন শ্রমিক বাগানে কাজ করে। পতিত জমিতে বাগান করে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার অর্থনীতিতে অবদান রাখায় আইয়ুব আলীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ,স,ম সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু। চেয়ারম্যান আরো বলেন, ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি আগাছা ও জঙ্গলে ভরা ছিল আজকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা আম বাগানটি। আমার এলাকার অনেক মানুষের কর্ম সংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
আইয়ুব আলী বলেন, একসময় এই জমিতে মানুষ যেত না। এখন এখানে হাজার হাজার আম ধরে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিচর্যা ও শ্রমেই পতিত জমিতে সোনা ফলানো সম্ভব। তিনি বেকার শিক্ষিত যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ছোট বড় যেকোনো কাজে নেমে পরেন কিছু একটা হবেই।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ