বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন // শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

লিংকন আসলাম, আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে কলেজের প্রিন্সিপাল, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের সামনের সড়কে এ দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ মানববন্ধনে শিক্ষার্থী অভিভাবক বৃন্দ বলেন, গত ০৫/০৭/২০২৬ তারিখে বিদ্যালয় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিলো। উপজেলার প্রতিটি হাই স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা উপজেলা পরীক্ষা সমিতির অভিন্ন প্রশ্নপত্র দিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও, অত্র কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল মহিত কুমার দাশ এবং গণিত শিক্ষক যুগল দাশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও যোগসাজশে, গণিত শিক্ষক মোঃ সালামত হোসেন এবং ইংরেজি শিক্ষক সুজন কান্তি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এর পেছনে বিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অনৈতিক কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য জড়িত রয়েছে বলে মানববন্ধন অভিযোগ তোলা হয়। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো: শিক্ষক মহিত কুমার দাশ এবং গণিত শিক্ষক যুগল দাশের পূর্ণ সহযোগিতা ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিদ্যালয়ে একটি অবৈধ কোচিং বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের প্রভাব খাটিয়ে গণিত শিক্ষক মোঃ সালামত হোসেন ও ইংরেজি শিক্ষক সুজন কান্তি ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি দেন যে, প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া হবে না। এই বিশাল কোচিং বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার হীন উদ্দেশ্যে পরীক্ষা সমিতির প্রশ্ন বাদ দিয়ে গত ০৫/০৭/২০২৬ তারিখে তারা নিজেরা কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা নেন। এর মূল লক্ষ্য হলো-যারা তাদের সিন্ডিকেটের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদেরকে ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করা। পরীক্ষার দিন স্কুলের তৈরি প্রশ্নপত্র দেখার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু প্রিন্সিপাল মহিত কুমার দাশ ও সহযোগী শিক্ষকদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক পরীক্ষার হলরুমে আটকে রাখা হয় এবং মনগড়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যেখানে নিয়মের রক্ষক হবেন, সেখানে তিনি নিজেই এই অনৈতিক বাণিজ্যের মূল সহযোগী। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্য ও মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে এবং সরকারের কোচিং-প্রাইভেট বিরোধী নীতি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানববন্ধন স্থানে স্থানীয় আরো অভিযোগ করে বলেন শিক্ষকদের অর্থ লোভের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই নষ্ট হয়েছে যে, অধিকাংশ অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের অত্র বিদ্যালয় বাদ দিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন। অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বুধহাটা বিবিএম কলেজের স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র , শিমুল হোসেন, আরাফাত,উজ্জল, দ্বীপ, প্রণয়, বিপায়ন, রনি, শিউলি, মুন্নি , সাদিয়া, তিশা, সিনহিয়া আফরিন সহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তাগণ বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট প্রিন্সিপাল মহিত কুমার দাশ, গণিত শিক্ষক যুগল দাশ, গণিত শিক্ষক মোঃ সালামত হোসেন এবং ইংরেজি শিক্ষক সুজন কান্তির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ