নিয়ামতপুরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সংকট,ব্যাহত সেবা ও বাড়ছে জন্মহারের ঝুঁকি

জাকির হোসেন
​নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

​নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাভোগী দম্পতিরা। প্রয়োজনীয় এই সামগ্রীর অপ্রতুলতার কারণে মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা। অনেক সময় তাঁদের বিব্রত ও জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

​প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা তীব্র ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর এমন দীর্ঘমেয়াদি সংকট অব্যাহত থাকলে জনপদে জন্মহার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমপ্ল্যান্ট, আইইউডি বা কপার-টি, যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেবাগ্রহীতাদের নিতে হয়। বর্তমানে এই সেবাগুলো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী পদ্ধতি যেমন ভ্যাসেকটমি ও টিউবেকটমি সেবাও সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে।

​অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদী পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে খাবার বড়ি, কনডম ও ইনজেক্টেবল (ইনজেকশন)। পরিবার পরিকল্পনা সহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সেবাগুলো দিয়ে থাকেন। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য।

নিয়ামতপুরের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মাহমুদ হাসান বলেন, স্বল্পমেয়াদী সামগ্রীর মধ্যে খাবার বড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ইনজেক্টেবল ও কনডম। বর্তমানে ইনজেক্টেবল একেবারেই সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না এবং খাবার বড়ি ও কনডম মিলছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

সম্প্রতি অবসরে যাওয়া পরিবার পরিকল্পনা সহকারী শেফালি রাণী বলেন, অল্প কিছু সামগ্রী নিয়ে গ্রামে গেলে সাধারণ গৃহবধূরা সেগুলো চাইলেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো না। ফলে তাঁদের প্রায়ই সাধারণ মানুষের জনরোষের মুখে পড়তে হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গরিব গৃহবধূ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর মাধ্যমেই এই সেবা নিই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সেবা না পাওয়ায় আমাদের চরম অসুবিধা হচ্ছে। তিনি অতি দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

​রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মোঃ নুরুজ্জামান হক বলেন, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষ সাধারণত সরকারি এসব জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবার ওপর নির্ভরশীল এবং তারা কিছুটা অসচেতনও। এই সামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত জন্মহার বেড়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।

​সার্বিক বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকরাম রহমান সংকট স্বীকার করে বলেন, গত মাসে কিছু সামগ্রী আসলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। এর আগের বেশ কিছুদিন কোনো সরবরাহ ছিল না। আমরা প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছি এবং যতটুকু পাচ্ছি তা মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করছি। আশা করছি এই সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ