কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমিতির ‘ওয়ার্ল্ড সম্মাননা’ পেলেন সাংবাদিক আওরঙ্গজেব কামাল

কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমিতির ‘ওয়ার্ল্ড সম্মাননা’ পেলেন সাংবাদিক আওরঙ্গজেব কামাল
সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক সেবায় অবদানের স্বীকৃতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব (WIPC) ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালকে ‘ওয়ার্ল্ড সম্মাননা’ প্রদান করেছে ভারতের কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমিতি। সাংবাদিকদের কল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড, মানবিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকার জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আওরঙ্গজেব কামালের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সমরেশ রায় এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শম্পা দাস।
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস বলেন, বাংলাদেশের আওরঙ্গজেব কামাল একজন আদর্শবান, দক্ষ ও বিনয়ী সাংবাদিক নেতা। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটে তাঁকে সবসময় পাশে পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁর মানবিক কার্যক্রমও প্রশংসনীয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ২১টিরও বেশি দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সংহতি জোরদার হচ্ছে। ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সাংবাদিকদের বিভিন্ন উদ্যোগেও এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিবাচক ভূমিকা দেখা গেছে। তাঁরা ভারতবাসীর পক্ষ থেকে আওরঙ্গজেব কামালের প্রতি শুভকামনা জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমিতির প্রধান বাবু বিষ্ণু চন্দ্র বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। সংগঠনটির নেতা আওরঙ্গজেব কামালের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সাংবাদিকদের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব তাঁদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সংগঠনটির কর্মকর্তা শম্ভু দাস বলেন, ভারতের সাংবাদিক সমরেশ রায় ও শম্পা দাসের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁরা যে সহযোগিতা পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। এই সহযোগিতা দুই দেশের সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এই সম্মাননা প্রদান ও সার্বিক আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেছে ভারতের দৈনিক দুরন্ত বাংলা ও সোনার বাংলা টিভি।
সম্মাননা অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সব সাংবাদিক নেতা, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি তুরস্কের ওসমান বায়কুশ, শ্রীলঙ্কার রাঙ্গা বান্দারানায়েকে, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পাকিস্তানের মিয়ান ইশতিয়াক আলী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ভারতের সমরেশ রায়, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শম্পা দাস, সৌদি আরবের দপ্তর সম্পাদক আলহাজ সোহাগ, বাংলাদেশের আনিস প্রধানসহ অসংখ্য সাংবাদিক নেতা এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, কানাডা, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই সংগঠন কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সম্মিলিত শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক।”
আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করায় তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ এবং ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তিনি সমিতির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সংগঠনটির সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সংহতি এবং মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সমাজকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে এ সম্মাননা দুই দেশের সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। এদিকে, আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের হায়দরাবাদে ‘ন্যাশনাল প্রেস ডে-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রেস ক্লাব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যান্ড এডিটরস কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল।
তিনি জানান, প্রেস ক্লাব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যান্ড এডিটরস কাউন্সিলের জাতীয় চেয়ারম্যান, আইনজীবী, লেখক ও গবেষক ড. সৈয়দ খালিদ কাইস ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত ঐক্য জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এ আমন্ত্রণের জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কলকাতায় আওরঙ্গজেব কামালের সম্মাননা অর্জন এবং হায়দরাবাদে ন্যাশনাল প্রেস ডে-২০২৬ অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ—দুটি উদ্যোগই বাংলাদেশ ও ভারতের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংহতি আরও জোরদার করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও মানবিক সহযোগিতার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
