কালিগঞ্জে গভীর রাতে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল:থানায় অভিযোগ দায়ের

তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবর দখল, জমির সীমানা পরিবর্তন, বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ক্ষতিসাধন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ কালিগঞ্জ থানায় দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের দফাদার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক ফতেপুর গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় দা, কুড়াল, কোদাল, লোহার শাবল, রড ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা জমির আকার ও সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়।
থানায় দেওয়া পৃথক দুটি অভিযোগে সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি আজিবর রহমান, ফারুক হোসেন ওরফে টেক্কা, আব্দুর রহমান, জামির হোসেন, আলী বাহার, হাফিজুর রহমান, মো. বাবু গাজীসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ৯০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফতেপুর মৌজায় দলিলসূত্রে প্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে তারা সমাধানের চেষ্টা করায় তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, হয়রানি এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাতের ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে অভিযোগকারীদের অবরুদ্ধ করেন। পরে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কেউ জমি দখলের কাজে বাধা দিলে তাকে হত্যা করে ওই জমিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা প্রথম জমিটি কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মৌজায়, জে.এল. নং-২২০, এসএ খতিয়ান নং-৩৩০ ও ৪৫ এবং দাগ নং-৩৭৫-এর অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ০.৬০ শতকের মধ্যে ০.৫০ একর জমির কথা বলা হয়েছে। জমিটির সীমানায় উত্তরে আনোয়ার গাজী, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পশ্চিমে সামছুর গাজীর জমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় অভিযোগে একই মৌজার জে.এল. নং-২২০-এর এসএ খতিয়ান নং-২৩০, ২৯, ২৭৬, ৪৩০, ৬৪, ৯, ৩৩০ ও ৯২ এবং দাগ নং-৩৭৫-এর জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ০.৬০ শতকের মধ্যে ০.১০ একর জমির কথা বলা হয়েছে। এ জমির সীমানায় উত্তরে শ্রী অরুন দাস, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পশ্চিমে শ্রী অরুন রজকের জমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ও আজিবর রহমান অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, ওই জমি তাদের জায়গা এবং অভিযোগকারীরা জোরপূর্বক তা দখল করে রেখেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই কারণেই তারা রাতে জমিটি নিজেদের দখলে নিয়েছেন।
অভিযুক্তদের এ দাবির বিষয়ে অভিযোগকারীদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযোগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তারা জানিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় সংঘর্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ