কালিগঞ্জের বসন্তপুর পূজা মন্দিরে মহাসপ্তমীতেও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ ও জেনারেটর, ভরসা চার্জার ব্যাটারি

তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে যখন মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা, তখন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে মহাসপ্তমীর দিনেও দেখা গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকার চিত্র। ফলে সিসি ক্যামেরা,পূজামণ্ডপে আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিকল্প হিসেবে চার্জার ব্যাটারির মাধ্যমে লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্দিরটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটির নেতারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে বসন্তপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা চললেও মন্দিরটিতে এখনো বিদ্যুতের নিয়মিত সংযোগ স্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থাও নেই। এ অবস্থায় চার্জার ব্যাটারির সাহায্যে লাইট জ্বালিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি বিধান চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল লস্করের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, মন্দিরের বৈদ্যুতিক মিটারের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে পূজার আয়োজনে এখনো জেনারেটরের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিকল্প হিসেবে চার্জার ব্যাটারির মাধ্যমে লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির নেতারা আরও জানান, বসন্তপুর এলাকায় তাঁদের মন্দিরকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সংখ্যা খুবই সীমিত। এখানে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করে। সীমিত সংখ্যক পরিবারের সহযোগিতায় সার্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এ কারণে পূজার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে তাঁদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে মন্দিরটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এ সময় ট্যাগ অফিসার, প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য, আনসার সদস্য এবং গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসব চলাকালে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে দেখা যায়। পূজার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত ভাবে কাজ করার বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।

শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ভক্তদের অংশ গ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তবে বসন্তপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে মহাসপ্তমীর দিনেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় সীমিত সুবিধার মধ্যেই পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈদ্যুতিক মিটারের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং সংযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এখন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হলে পূজার বাকি দিন গুলোতে মন্দিরের আলোক সজ্জা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ