চুনারুঘাটে মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরমে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চুনারুঘাটে মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরমে
প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে কথিত মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের আজিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নাফের ছেলে আব্দুল জলিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ মাদক এনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচিত ধোলাইপাড় গ্রামের মৃত জহুর হোসেনের ছেলে কাজল মিয়া অভিযোগ করেন, পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, চুনারুঘাট বাজারের একটি বিকাশ দোকান থেকে তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা, প্রায় ৩ কেজি গাঁজা এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ও ১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় পুলিশের আরেকটি অভিযানে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় সোহাগ মিয়া নামে একজন আটক হলেও মূল অভিযুক্ত আব্দুল জলিল পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে সিন্ডিকেটটি প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রও জড়িত রয়েছে। তারা বিভিন্ন কবরস্থানের গেট, ডিম লাইটসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে থাকে। এ বিষয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও চক্রটির সম্পৃক্ততার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন বলে জানা গেছে।এদিকে, এই মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য গত ৮ মে ২০২৬ সকালে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার আটক করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ২১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং রহমত আলী সুজন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বড়াইল গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। ইতোমধ্যে একাধিক নিরীহ ব্যক্তি এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
