চৌগাছা ১০ কোটি টাকায় চৌগাছায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক মেরামত, যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্বস্তি
শ্যামল দত্ত চৌগাছা (যশোর) থোকে:
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ দশমিক ০৬৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া উপজেলা ও গ্রামীণ সড়কগুলো সংস্কার হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে, কমেছে দুর্ভোগ এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি রাজস্ব খাতের প্রায় ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৬ দশমিক ০৬৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা সড়ক ৯ দশমিক ৮৫৫ কিলোমিটার, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া ৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
মেরামতকৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর জিসি সড়কের ৭০০০ থেকে ১২,৯৫৫ মিটার অংশ, যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর এই সড়কের বড় ধরনের সংস্কার হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে।
এছাড়া চৌগাছা-টেঙ্গুরপুর-যাদবপুর-খড়িঞ্চা বাজার-পুড়াপাড়া-রাজাপুর বাজার সড়কের প্রায় ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশ প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে। কমলাপুর মোড় থেকে মাশিলা বাজার সড়কের প্রায় ২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার অংশ প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং চৌগাছা দামোদর বটতলা থেকে স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের প্রায় ২ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার অংশ প্রায় ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সৈয়দপুর পূর্বপাড়া থেকে সাত মাইল সড়কের ১ হাজার ২০০ মিটার অংশ প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং গয়ড়া থেকে মাশিলা সড়কের একটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশও সংস্কার করা হয়েছে।
প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, সংস্কার করা অধিকাংশ সড়ক ৮ থেকে ১২ বছর আগে সর্বশেষ মেরামত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। চলতি অর্থবছরের সংস্কার কার্যক্রমের ফলে সড়কগুলোর চলাচলযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চৌগাছা উপজেলার টেঙ্গুরপুর ইউনিয়নের সদস্য জাকির হোসেন খান বলেন, “আগে রাস্তা ভাঙা থাকায় কৃষকদের ধান, পাট ও সবজি বাজারে নিতে অনেক সময় লাগত। বর্ষাকালে গাড়ি চলাচলও খুব কষ্টকর ছিল। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় সহজে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যাচ্ছে এবং পরিবহন খরচও কিছুটা কমেছে।”
স্বরূপদাহ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আবু মুসা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছিল। মালামাল আনতে ও পাঠাতে অতিরিক্ত সময় লাগত। রাস্তা সংস্কারের পর এখন যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে, ব্যবসাও আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।”
চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাচালক জাহিদ হোসেন বলেন, “আগে ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ি বারবার নষ্ট হতো। এখন যাত্রী নিয়ে দ্রুত ও নিরাপদে চলাচল করতে পারছি। এতে আমাদের আয়ও কিছুটা বেড়েছে।”
চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুণ্ডু বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব খাত থেকে চৌগাছা উপজেলার রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে উপজেলার প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক এবং ৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। এসব রাস্তা মেরামতের ফলে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হয়েছে। এ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে যশোর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহাবুবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ ও ঠিকাদারদের সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও এলজিইডির আওতায় সরকারের অর্থায়নে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক মেরামতের আশা করছি।”

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ