রূপগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় মৃত যুবলীগ নেতাসহ ৬৪ জন আসামি

মোঃ মাহবুবুর রহমান,
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই বছর আগে মারা যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের উপজেলা শাখার সহসভাপতি শামীম মাহবুবসহ ৬৪ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলা করা হয়েছে।
মামলায় মৃত শামীম মাহবুবকে আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। শামীম মাহবুব উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসীবাগ এলাকার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার ৩০০ ফুট সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষোভ করেন। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাশকতা ঠেকাতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রূপগঞ্জ থানার গুতিয়াব এলাকার ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের হইয়া ব্রিজের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চালান।

এ ঘটনায় রায়হান, মোবারক হোসেন, সিয়াম আহমেদসহ ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় শামীম মাহবুবকে ৬০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শামীম মাহবুবের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মামলার বাদী রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কম্পিউটারে টাইপিং মিস্টেক হওয়ার কারণে পিতার নামটা ভুল এসেছে। আমরা পরে সংশোধন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ মামলা নিয়েছে লোকজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পরে বলতে পারব।’

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ