কালিগঞ্জে আদালতের আদেশ অমান্য করে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে আদালতের আদেশ অমান্য করে রেকর্ডীয় জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধ দ্রুত নিরসন করা না হলে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুল হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম গাজী ক্রয়সূত্রে বি.আর.এস. ৮৬৫ ও ৮৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৪২৩ নম্বর দাগের ৬৫ শতক জমি ২০০২ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেছেন।
রবিউল ইসলাম গাজীর অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গাজী কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর দখলীয় ওই জমিতে ধান রোপণে বাধা দেন। গত শুক্রবার সকালে কৃষ্ণনগর মৌজায় তফসিলভুক্ত ওই জমিতে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম গাজী গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি. ২১০৬/২৫ নম্বর মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। তাঁর দাবি, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালত তাঁর পক্ষে আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখতে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের ওই আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রবিউল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। চাষাবাদের সময় বাধা দেওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, জমির বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে সংঘর্ষসহ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই আদালতের আদেশ ও জমির কাগজপত্র যাচাই করে আইনানুগভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার গাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে তাঁরও জমি রয়েছে। তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবিউল ইসলাম গাজী বলেন, আদালতের আদেশের পরও যদি জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের। আমি প্রশাসনের কাছে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ কামনা করেছেন জমির দাবিদার রবিউল ইসলাম গাজী।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ