চবি’র উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন

চবি’র উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন
বিশেষ প্রতিনিধি (আহমদ রেজা)চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন।
রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করা হয়।
নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে তাঁর মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন দেশের একজন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, ব্যাঙ্গর থেকে পরিবেশগত বনায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জার্মানির গটিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইএফইএসসিইউ থেকে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বন অভিযোজন বিষয়ে পোস্টডক্টোরাল গবেষণা পরিচালনা করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রক্টর, আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ খাতে তাঁর প্রায় ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বন উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এ রিসার্চ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বীজ বাগান ব্যবস্থাপনা ও বনসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি ইউএসডিএ অর্থায়িত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ইউএনইপি অর্থায়িত কার্বন পরিমাপ প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে সমৃদ্ধ অবদান। বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক ছয়টি গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। এছাড়া তাঁর ৬০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে সুইডেনের উমিয়ায় অনুষ্ঠিত আইইউএফআরও-এফএও সম্মেলনে ‘সেরা গবেষণা পুরস্কার’ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ১৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প ও থিসিস তত্ত্বাবধান করেছেন।
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই শিক্ষাবিদের নিয়োগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।
