তালায় হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শে অবৈধভাবে গর্ভপাত,রুগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

তালায় হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শে অবৈধভাবে গর্ভপাত,রুগীর অবস্থা আশঙ্কা
সাতক্ষীরার তালা সদরের খানপুর বাজারের হাতুড়ে ডাক্তার শরিফুলের ভুল চিকিৎসায় অবৈধ গর্ভপাত করাতে গিয়ে এক গৃহবধূর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ঐ নারী বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাতুড়ে ডাক্তার শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
নাম গোপন রেখে ভুক্তভোগীর পারিবার থেকে জানানো হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের পর লোকলজ্জার ভয়ে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার শরিফুলের শরণাপন্ন হন। কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই শরিফুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। গত কয়েকদিন আগে তিনি ওই গৃহবধূর অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।এক পর্যায়ে ঔষধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানোর পর রুগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়।তারপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নূন্যতম জ্ঞান ছাড়াই হাতুড়ে ডাক্তার শরিফুল বছরের পর বছর চিকিৎসা করে আসছে। তালা সদরের খানপুর বাজারের একধিক ব্যক্তিরা জানান,শরিফুল বছরের পর পর চেম্বার খুলে ঔষধ বিক্রি ও চিকিৎসা করে আসছে। আসলে তার কোন বৈধ অনুমতি নেই।এমনকি রুগী দেখারও কোন অনুমতি নেই।
এ বিষয়ে কথিত ঐ হাতুড়ে ডাক্তার শরিফুল ইসলাম বলেন,ঐ গৃহবধূর মা আমার কাছ এসে বলে তার মেয়ে ২ মাসের গর্ভবতী আমরা এ সন্তান নষ্ট করতে চাই। তাদের পরামর্শে আমি গর্ভপাতের ঔষধ দিয়েছি পরে শুনেছি ঐ গৃহবধূ ৬ মাসের গর্ভবতী। না জেনে এমন চিকিৎসা করানো আমার ভুল হয়েছে।
এই বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে অভিযুক্ত ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই অপচিকিৎসা চক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অতি দ্রুত অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসক শরিফুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্তা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
