“দামুড়হুদায় যাত্রীবাহী বাসে ডিএনসি’র হানা: ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ জীবননগরের যুবক আটক।”

​মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
০৬/০৬/২০২৬ ইং শনিবার
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাদকবিরোধী এক সফল অভিযানে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ আব্দুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
আজ শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার জয়রামপুর চায়ের হাট সংলগ্ন কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
​আটককৃত আব্দুল্লাহ চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার শাপলাকলিপাড়া এলাকার আরফান আলির ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে এক যুবক যাত্রীবাহী বাসে চড়ে চুয়াডাঙ্গার দিকে আসছে। এই গোপন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ আভিযানিক দল দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর চায়ের হাট এলাকায় ওত পেতে থাকে।

​সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা থেকে জীবননগর অভিমুখী ‘পূর্বাশা পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস (যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৫৯) জয়রামপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় ডিএনসি’র দল সেটি থামানোর সংকেত দেয়। বাসটি থামার পর কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশিকালে বাসের সিটে বসা যাত্রী আব্দুল্লাহর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে তাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৩,০০০ (তিন হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক কেনাবেচা ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত তার নিকট থাকা ২টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও জব্দকৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত আইনানুযায়ী জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
​তিনি আরও জানান, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে মাদকের কবল থেকে মুক্ত করতে এবং এর অবৈধ রুটগুলো বন্ধ করতে ডিএনসি’র এই ধরনের ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ