দূর্নীতির পর বহাল তবিয়তর তালার সমবায় কর্মকর্তা সন্ন্যাসী মন্ডল

দূর্নীতির পর বহাল তবিয়তর তালার সমবায় কর্মকর্তা সন্ন্যাসী মন্ডল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পত্রিকার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরেও
বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।কর্তৃপক্ষ
তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল বর্তমানে তালা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। বিগত সময়ে তার দূনীতির অসংখ্য পত্র পত্রিকা সহ অন লাইন নিউজ পোটালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার পর অদৃশ্যকারনে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্তা না নেওয়ায় হতভম্ব হয়েছে অভিযোগ কারীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্নাসী কুমার মন্ডল একসময় খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় চাকুরি করতেন। ওই সময় দূনীতির কারনে তার বিরুদ্ধে বিভাগী মামলা হয়। মামলা জড়িয়ে কমেনি তার দৌরত্ব। সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে দূর্বব্যাবহারের কারণে তাকে আশাশুনি বদলী করা হয়।
নাম জানানোর শর্তে তালা উপজেলার এলাকার সমবায় অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল আশাশুনিতে যোগদান করা ঘুষ বানিজ্য সহ নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় আশাশুনি বেউলা ও সদরে মুনজিত পুর এলাকার দুই হিন্দু নারীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে পুনারায় তালায় বদলী করা হয়। তালায় এসে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে মিশে তিনি ঘুষ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।
রহমত আলী, ইবাদুল সানা , সহ একাধিক এনজিও মালিক জানান, তাদের সমবায় অফিসে প্রতিবছর নিববন্ধন নবায়ন করতে হয়। কিন্তু সন্যাসী মন্ডল যোগদানের পর ঘুষের পরিমান দ্বিগুন হয়েছে। ফাইল প্রতি দশ হাজার থেকে লাখ টাকার নিচে ছাড় করেন না তিনি। এ বিষয়ে সমবায় কর্মকর্তাকে জড়ালে তিনি যেন নিরব দর্শকের ভুমিকায়।উপজেলা সমবায় অফিসার, রফিকুল ইসলাম এই সন্ন্যাসীকে লালন পালন করেন অভিযোগ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা অফিসের একজন পরিদর্শক বলেন, সাম্প্রতি সময়ে সন্ন্যাসী জেলা সমবায় অফিসার সাতক্ষীরাকে ম্যানেজ করে পুনরায় আশাশূনিতে বদলি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আশাশুনি উপজেলায় সন্ন্যাসী মন্ডল থাকা কালীন সময়ে আশাশুনি উপজেলায় অনিয়ম আর দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।সন্ন্যাসী মন্ডল কাউকে তোয়াক্কা করতেন না।সমবায় অধিদপ্তরের সংযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে আশাশুনি উপজেলার দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তিনি যেহেতু সমবায় অধিদপ্তর, ঢাকায় সংযুক্তিতে ছিলেন সেইহেতু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ন্যানী ক্ষমতার অপর মালিক হয়েছিলেন। সেই সংযুক্ত অফিসার সন্ন্যাসী মন্ডলের উপর এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে,শেষ পর্যন্ত সন্ন্যাসী তার ১২ থেকে ১৮ মাসের টিএ/ ডিএ পাইনি।
সাতক্ষীরা মনজিতপুর বাসিন্দা রাহুল কুমার সিংহ জানান, সন্ন্যাসী মন্ডল প্রায়ই মনজিতপুর এলাকায় আসেন এবং একজন মহিলার সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক চলমান আছে।আমরা ইতিপূর্বে বিগত জেলা সমবায় অফিসার সেলিম মাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম এবং তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। সন্ন্যাসী এখনোও এখানে নিয়মিত যাতায়াত করে। ভিকটিমের সংসারটি যে কোন মূহুর্তে ভেঙে যেতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সমবায় কর্মকর্তা সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল বলেন, তিনি কোন ঘুষ দূনীতির সাথে জড়িত নন।
একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপোপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সন্যাসী ঘুষ বানিজ্য বা দূনীতির সাথে জড়িত এমনটি তার জানা নেই। তবে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি- সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল
