বোয়ালিয়াতে মাদকের রাজত্ব মাদক ব্যবসায়ীর ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট?

আরএমপিতে মাদকের স্বর্গরাজ্য এক ‘হোয়াইট কালার’ গডফাদার এখনও অধরা : উদাসীন পুলিশ
রাজশাহী জুড়ে -মাদকের রাজত্ব প্রকাশে বসেছে মাদকের হাট প্রশাসন নীরব!
বোয়ালিয়াতে মাদকের রাজত্ব মাদক ব্যবসায়ীর
ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট?
২২-০৪-২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী—যে শহর এক সময় তার শিক্ষা,সংস্কৃতি ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল—সেই নগরী আজ মাদক নামক মরণছোবলের থাবায় আক্রান্ত। এক অদৃশ্য আগ্রাসনে নিঃশব্দে গিলে খাচ্ছে এই অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজ,পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
নগরীর অলিগলি,আবাসিক এলাকার ফাঁকা ফ্ল্যাট,কিছু চায়ের দোকান এমনকি কিছু তথাকথিত ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের আড়ালেও চলছে জুয়ার আসর ও মাদক সেবনের মহোৎসব। প্রতিনিয়ত তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে এই জালে,আর সেই জাল বুনছে এমন এক চক্র,যাদের শিকড় প্রশাসনের অগোচরে ভয়াবহভাবে বিস্তৃত।
এই জুয়া ও মাদকের যোগান দিতে গিয়ে নগরীতে বাড়ছে ছিনতাই,চুরি,খুন,অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধ। অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে পরিবার,সমাজে বাড়ছে অবিশ্বাস,অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা। মাদকে আসক্ত হয়ে অনেক তরুণ আজ হয়ে উঠছে অপরাধী,কিংবা হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের দিশাহীন গন্তব্যে।
নগরীর মধ্যে মাদকের অন্যত্তম ঘাটি,বোয়ালিয়া থানা অঞ্চল। এই অঞ্চলে ছোট বড় মিলে প্রায় ১০০ জনের
বেশি মাদক কারবারী রয়েছে। সেই কয়েক যুগ ধরে এ অঞ্চল গুলো মাদকের স্বর্গরাজ্য।
নগর জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও বোয়ালিয়া, থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আরিফ এখনও অধরা। অদৃশ্য এক ‘হোয়াইট কালার’গডফাদারের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট।হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা মাদক।
পাঁচানি সাধুর মোড় এলাকার মাদকের সিন্ডিকেটের গডফাদার ও মূল হোতা গিয়াস মন্ডলের ছেলে আরিফ হোসেন উরূপে খোপা আরিফ বর্তমানে এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে এই থানা অঞ্চলে এক পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটের
দাম ৩৫০ থেকে ৪০০টাকা। আর এই টাকা যোগাড় করতে দিন রাত এক করে ফেলছে মাদক সেবিরা। দিন-রাত সমানতালে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা।টাকা দিলেই যেকোনো বয়সের কেউ পেতে পারে ইয়াবা,গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক।অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও দেখা যায় দেদারসে মাদক নিতে। তাদের এই মাদক বিক্রির হাটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেরকে মেনেজ করে চলছে ব্যবসা।এর বিরুদ্ধেও মাদকসহ নানা অপরাধে ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা,গাঁজা বিক্রি। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তবে স্থানীয়া বলছেন,এসব মাদক ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে সন্ত্রাসী,ছিনতাইকারী ও চোরেরা।কেউ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে নির্যাতন ও হয়রানি হুমকি।এদের কারণে এলাকায় বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই। যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে। প্রতিবাদ না হওয়ায় দিন দিন তাদের দাপট বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে প্রতিবেদক গোপনে,পাঁচানী মাঠ,পঞ্চপট্টি,রমনা পট্টি,কেদুর মোড়,হাদির মোড়,বালুর ঘাট,তালাইমারী কালু
মন্দির রোড়,বালিয়া পুকুর,ভদ্রা,বর্ণালী,হেঁতেমখা, এলাকায় ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখেন।
প্রকাশ্যেই হাতে ইয়াবা,গাঁজা তুলে দিচ্ছেন সেবনকারীদের।
গিয়াস মন্ডলের ছেলে আরিফ হোসেন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছেন। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই এলাকাগুলোই চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ,বাড়ির সামনেই যেন মাদকের হাট বসেছে।প্রতিদিন গাঁজা,ইয়াবাসহ নানা মাদক কিনতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে।এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে ৮ থেকে ১০ জন মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করলেও অনেকেই এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়রা বলেন,সাধুর মোড় এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা আরিফ, মাসুদ, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।এদের নেতৃত্বে রমরমা ব্যবসা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান,মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে।প্রকাশ্যেই তারা বলে,পুলিশ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালায়। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
মাদক বিক্রির কারণে এলাকার যুবকরা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস হয়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে।আমরা প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ কামনা করছি।
এলাকায় মাদক নির্মূল করতে হলে গিয়াস মন্ডলের ছেলে আরিফকে গ্রেপ্তার খুব জরুরী।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র এডিসি গাজিউর রহমান বলেন,মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে।প্রতিদিন বিভিন্ন থানা,ডিবি পুলিশ,চুরি,ছিনতাই জুয়া ও মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিদের মাদকসহ গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের কে পুলিশ নজর দারিতে রেখেছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
