মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্কের নাম ওসি নাজমুল হক

লালমনিরহাট সংবাদ দাতা:

তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্তরায় মাদক। মাদকের ছোবলে তরুণ যুবসমাজ যেভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মাদকাসক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধা-নারী-পুরুষ-নির্বিশেমাদকের ভয়াল থাবার শিকারে পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর এই মাদকের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।

যোগদানের পর থেকে পাল্টে গেছে পাটগ্রাম থানার চিত্র। কমেছে সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধ। বেড়েছে সেবার মান। সেইসঙ্গে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে। বিশেষ করে মাদকের উপর জেহাদ ঘোষণা করেছেন ওসি নাজমুল হক। মাদকরোধের অভিযানের সঙ্গে বেড়েছে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেনভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা। অভিযানের কারণে গা ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা । অনেকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কারবারিরা নতুন কৌশলে মাদকদ্রব্যের কারবার শুরু করলেও কঠোর নজরদারিতে তা ধরা পড়ছে থানা পুলিশের কাছে।
জানা যায়,পাটগ্রাম উপজেলার মূল সমস্যা মাদক। স্থানীয় প্রশাসন, এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, সাধারণ বাসিন্দাসহ সবাই অতিষ্ঠ এই মাদকে। সবাই একবাক্যে বলতেন, মাদক নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন ওসি নাজমুল হক। উপজেলার পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে দিনের আলোয় বিক্রি হতো মাদক। বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার বেশি এসব এলাকায়। তবে ওসি নাজমুল হক এ-র যোগদানের পর থেকে কমতে শুরু করেছে মাদক কারবারি। 
পাটগ্রাম পৌর সভার অনেকই জানান,ওসি সাহেব মাদক ও জুয়া নির্মূলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরাতো এমন পুলিশেই চাই। 
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বলেন, পাটগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে  দিনের বেলায়ও মাদক বিক্রি হতো। মাদকসেবীদের জন্য সন্ধ্যার পর এর আশপাশের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও ছিল ভয়। তবে তা এখন অনেকটা কমে এসেছে। তবে মাদক কারবারিদের ধরে আনলে দালালরা ছাড়িয়ে নিতে তদবির চালায়। দালালদের ধরতে হবে। আগের তুলনায় থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে । তিনি আরও বলেন, মাদক ও জুয়া বন্ধে আরও কঠোর হতে হবে। 
ওসি নাজমুল হক বলেন,‘আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ মাদক ব্যবসা বন্ধ ও মাদকমুক্ত পাটগ্রাম উপহার দেয়া। বলতে পারেন মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছি। এতে পাটগ্রামে অনেকেই ক্ষুব্ধ। তবে আমি বদ্ধপরিকর। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। নিজে অভিযানে যাচ্ছি। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপন না করে সেখানেই অপারেশন চালাচ্ছি। যদিও রিস্ক থেকে যাচ্ছে তবুও পিছু হটছি না। এখানে মাদকের অনেকগুলো স্পট রয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াতেই মূলত মাদক ব্যবসা হতো। নারী মাদক ব্যবসায়ীও জড়িত। তবে বিগত কয়েকমাসের অভিযানে অনেকটাই কমে এসেছে। যতদিন এখানে থাকবো মাদকের ব্যাপারে কোনো আপসে যাবো না। 

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ