সাংবাদিক তৌহিদুজ্জামানের দাদার দাফন সম্পন্ন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

সাংবাদিক তৌহিদুজ্জামানের দাদার দাফন সম্পন্ন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন
লিংকন আসলাম, আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাটরা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও এলাকার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আহমদ আলী সরদারের (১০৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সাংবাদিক তৌহিদুজ্জামানের দাদা। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) মাগরিবের নামাজ আদায়রত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের নামাজরত অবস্থায় মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার (৯ জুন) যোহরের নামাজ শেষে বাটরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মরহুমের মেজ ছেলে, আরবি প্রভাষক মাওলানা মনিরুজ্জামান।
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়।
জানাজা শেষে বাটরা বায়তুন নূর জামে মসজিদের নির্ধারিত কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
আলহাজ্ব আহমদ আলী সরদার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এলাকার ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও মানবিক নানা উদ্যোগে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য তিনি সর্বমহলে সম্মানিত ছিলেন।
এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবন পরিক্রমায় তিনি সমাজের নানা পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও পরামর্শ থেকে উপকৃত হয়েছেন এলাকার অসংখ্য মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার একজন অভিভাবককে হারানোর পাশাপাশি এলাকাবাসী হারিয়েছে একজন অভিজ্ঞ সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্বকে।
মৃত্যুকালে তিনি সন্তান-সন্ততি, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
