চুনারুঘাটে ঘুমন্ত যুবককে মারধর ও ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

চুনারুঘাটে ঘুমন্ত যুবককে মারধর ও ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জমি দিয়ে চলাচলের রাস্তা ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত এক যুবককে মারধর এবং গরু বিক্রির ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের মা মোছা. মনি আক্তার চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে চুনারুঘাট সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ নরপতি (মাসুকপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মনি আক্তারের দাবি, তাঁদের প্রতিবেশী রেজিয়া আক্তার (৩৫), মিনারা আক্তার (২৫) ও মনোয়ারা খাতুন (৫৮)-এর সঙ্গে চলাচলের রাস্তা ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশীদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলেও ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় তাঁদের গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হতো। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
মনি আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার দিন অভিযুক্ত তিন নারী তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ছেলে খলিল মিয়ার (২৪) ঘরে ঢোকেন। এ সময় খলিল ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁকে জোরপূর্বক চেপে ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ছাড়া খলিল মিয়ার বালিশের নিচে রাখা গরু বিক্রির ৫৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সময় অভিযোগকারীর ভাই জহুর আলীর ঘর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এর আগেও অভিযুক্তরা তাঁর ছেলেকে মারধর করেছেন এবং তাঁদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশ ও মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এসব ঘটনায় তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর আহত খলিল মিয়াকে চুনারুঘাট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তাঁর মা। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশের বক্তব্যও জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
