তালায় তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, আদালতে মিথ্যা মামলার অভিযোগ।

মোঃ আজিজুল ইসলাম :::
তালা সাতক্ষীরা::

সাতক্ষীরা জেলার তালায় একটি কুকুরকে ইট মারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালা পুরাতন থানার পাশে সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে ফারুক হোসেন বিশ্বাস পাশের একটি দোকানে গেলে তাদের পালিত কুকুরটি তার পেছনে যায়। এ সময় প্রতিবেশী সেলিম বিশ্বাসের ছেলে শরিফুল ইসলাম কুকুরটিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারেন। তবে ইটটি কুকুরের গায়ে না লেগে ফারুক হোসেনের গায়ে লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে সেলিম বিশ্বাস ও তার ছেলে শরিফুল ইসলাম বিশ্বাস তালা থানায় মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় থানায় মামলা গ্রহণ করেনি। এরপর সেলিম বিশ্বাসের পুত্রবধূ আজমিরা বেগমকে বাদী করে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৫৪, ৪২৭, ৩৭৯, ৩৮০ ও ১১৪ ধারায় ফারুক হোসেন, মাসুম বিশ্বাস, সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস, আমেনা বেগম ও কলেজছাত্রী কেয়া খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তালা থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। যার নম্বর ২৪/২৬।
মাসুম বিশ্বাস দাবি করেন, কুকুরকে ইট মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম ও তার বাবা সেলিম বিশ্বাস তার ভাই ফারুক হোসেনকে মারধর করেন। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রতিপক্ষ মিথ্যা আঘাতের নাটক সাজিয়ে আদালতে মামলা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতে দাখিল করা মেডিকেল রিপোর্ট ও ছবিগুলো পুরোনো একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনার। বর্তমানে তারা কেউ অসুস্থ নন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সেলিম বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ