নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি বাকবিশিস’র

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি বাকবিশিস’র
(আহমদ রেজা) চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি :
শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। শুক্রবার (০৮ মে ২০২৬) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। তারা বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৬৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা এবং কোনো মহলের চাপে এ প্রক্রিয়া থেকে সরকার যেন সরে না আসে সে আহ্বানও জানান নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মব সৃষ্টির মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাদের পুনর্বহাল ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অনার্স-মাস্টার্স শ্রেণিতে পাঠদানকারী শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করা, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান এবং স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবিও উত্থাপন করা হয়।
সভায় বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, কর্মমুখী শিক্ষা এবং উপযুক্ত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সংগঠনের ১১তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ আকমল হোসেন। পরে প্রয়াতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সংগঠনের সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এ সময় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বাবুল, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, অধ্যাপক মিজানুর রহমান মজুমদার, অধ্যক্ষ মাজাহার হোসেন, অধ্যাপক আবুল হোসেন, অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া, অধ্যাপক তড়িৎ কুমার ভট্টাচার্য, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, অধ্যাপক ওসমান গণি সুমন, অধ্যাপক নুরউদ্দিন, অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র সাহা ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
সবশেষে, বেসরকারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের কার্যকর ও সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
