চুয়াডাঙ্গায় রেখা পরিবহনের ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু: শোকের ছায়া এলাকায়

চুয়াডাঙ্গায় রেখা পরিবহনের ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু: শোকের ছায়া এলাকায়
মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
১৩/০৭/২০২৬ ইং সোমবার
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের ধান্যঘরা ক্লাব মোড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিয়াম (৪) নামের এক অবুঝ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশু সিয়াম কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা গ্রামের মো. পলাশের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে সিয়াম তার দাদির সঙ্গে কার্পাসডাঙ্গা এলাকা থেকে অটোরিকশা যানবাহনে করে নিজ গ্রাম ধান্যঘরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে তারা ধান্যঘরা ক্লাব মোড় এলাকায় পৌঁছালে গাড়ি থেকে নেমে সিয়াম রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা কার্পাসডাঙ্গাগামী ‘রেখা পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
বাসের ধাক্কায় সিয়াম রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং ঘাতক রেখা পরিবহনটিকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছি। তবে বাসের চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
শিশু সিয়ামের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। ধান্যঘরা গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দর্শনা-মুজিবনগর সড়ক দিয়ে নিয়মিত দ্রুতগতিতে বাস চলাচল করে, যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) স্থাপন করা হলে এবং চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা পলাশসহ পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস যেন প্রকম্পিত হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘাতক চালককে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
