সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ

সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ।
মোঃ আজিজুল ইসলাম ::
সাতক্ষীরা :::
সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের এসএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে নাজমুল ইসলাম ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে বাইপাস সড়ক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার পার হয়ে একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ ইয়াবা, কোরেক্স ও গাঁজা বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কাজে দোকান মালিক তাইফুর সহযোগিতা করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাইন বিল্লাহ, নাজমুল ইসলাম ও তাইফুরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর সোমবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোরেক্স সিরাপ উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।”
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের পদমর্যাদা বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কোরেক্স সিরাপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
