কালিগঞ্জের রতনপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের সুবর্ণগাছি গ্রামে আদালতে চলমান বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন জমির মালিকানা দাবিদাররা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণগাছি গ্রামের মৃত আরশাদ সরদারের ছেলে রেজাউল সরদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় জমির মালিকানা দাবি করা গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে আব্দুস সালামের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সুবর্ণগাছি মৌজার এসএ ১৬ নম্বর খতিয়ানের ৫০ নম্বর দাগে মোট ৮৮ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতক জমির মালিকানা কাগজপত্রের ভিত্তিতে গোলাম মোস্তফা দাবি করছেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৭৩/২৪।
গোলাম মোস্তফা ও জয়নাল সরদারের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রেজাউল সরদারসহ কয়েকজন সেখানে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে তারা হঠাৎ করে জমিতে প্রবেশ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালান।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, আদালতের একটি আদেশে রেজাউল সরদারের ৫৮ শতক জমি দখলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই আদেশের বাইরে গিয়ে গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে আব্দুস সালামের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আদালতের আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি কালিগঞ্জ থানায় লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মৃত আরশাদ সরদারের ছেলে রেজাউল সরদারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোন নম্বর ০১৯৮২১১১২৪৮-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ